• A-AA+
  • NotificationWeb

    Title should not be more than 100 characters.


    0

WeatherBannerWeb

Asset Publisher

Bhandardara ( Ahmednagar )

ভান্ডারদারা বাঁধটি ভারতের পশ্চিম ঘাট অঞ্চলে ব্রিটিশ শাসনামলে প্রভারা নদীর উপর নির্মিত হয়েছিল। সহ্যাদ্রি রেঞ্জের অন্যতম নৈসর্গিক সৌন্দর্য আহমেদনগর জেলার আকোলেতালুকায় অবস্থিত এই বাঁধ থেকে পরিদর্শন করা যায়। 

জেলা/অঞ্চল

আহমেদনগর জেলা, মহারাষ্ট্র, ভারত।

ইতিহাস

১৯২৬ সালে ভান্ডারদারা বাঁধের উদ্বোধন করা হয়েছিল, যা উইলসন ড্যাম নামেও পরিচিত। এটি প্রভারা নদীর উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি ভূগর্ভ থেকে প্রায় ১৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এই বাঁধের কারণে যে জলাধার তৈরি হয়েছে তা আর্থার লেক বা ভান্ডারদারা হ্রদ নামে পরিচিত।

ভূগোল

ভান্ডারদারা বাঁধটি মহারাষ্ট্রের সহ্যাদ্রি পর্বতমালার প্রভারা নদীর উপর অবস্থিত। এটি পশ্চিম ঘাট অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় পাহাড়ি এলাকাও বটে। বাঁধটি নাসিকের দক্ষিণে, মুম্বাইয়ের উত্তর-পূর্বে এবং কালসুবাই পর্বতের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।

আবহাওয়া/জলবায়ু

এই অঞ্চলের গড় বার্ষিক তাপমাত্রা ২৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এই অঞ্চলে শীতকালে চরম ঠাণ্ডা পড়ে এবং তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো কম হয়।

গ্রীষ্মকালে সূর্য খুব কড়া। এই অঞ্চলে শীতের তুলনায় গ্রীষ্মকালে বেশি বৃষ্টি হয়। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে চলে যায়।

গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ১১৩৪ মিমি।

করণীয়

ভান্ডারদরায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সবুজের সমারোহ এবং মনোরম আবহাওয়া রয়েছে। মুম্বাই, পুনে, আহমেদনগর এবং নাসিক থেকে আসা পর্যটকদের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় গন্তব্যস্থল। আপনি আর্থার লেক এবং উইলসন ড্যামের মতো জনপ্রিয় স্থান পরিদর্শন করতে পারেন। এই হ্রদে বোটিং করা যায়। এই অঞ্চলে দুটি জলপ্রপাত রয়েছে, রান্ধা জলপ্রপাত এবং উইলসন জলপ্রপাত যা আমব্রেলা ফলস নামেও পরিচিত যা বাঁধের প্রাচীরের ঠিক কাছে অবস্থিত। আমব্রেলা ফল বর্ষাকালে ফুলে ফেঁপে ওঠার দরুন পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।

নিকটতম পর্যটন কেন্দ্র

  •  রান্ধা জলপ্রপাত: বাঁধ থেকে ১১ কিমি দূরে প্রভারা নদীর উপর অবস্থিত একটি সুন্দর জলপ্রপাত রয়েছে যা রান্ধা জলপ্রপাত নামে পরিচিত। উচ্চতা আনুমানিক ১৭০ ফুট, জলপ্রপাতটি থেকে বর্ষা কালে প্রচণ্ডবেগে জল গিরিখাতে নিমজ্জিত হয়।
  •  কালসুবাই শিখর: মহারাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শিখরটি ভান্ডারদারা বাঁধের উত্তর-পশ্চিমে ১১KM দূরত্বে অবস্থিত। যদিও এখানে আরোহণ করা খুবই কঠিন, তবুও কাছের গ্রাম থেকে অভিজ্ঞ ট্রেকার এবং স্থানীয় গাইড নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
  • রতনগড় দুর্গ: সুন্দর দুর্গটি রতনওয়াড়ি গ্রামের কাছে ১৬.৫ কিমি দূরত্বে অবস্থিত। দুর্গটি ২০০০ বছরের পুরনো বলে মনে করা হয়। ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের শাসনামলে এটি স্বরাজ্যে গৃহীত হয়েছিল। এখানে ভগবান শিবের একটি বিখ্যাত মন্দির রয়েছে যা অমৃতেশ্বর নামে পরিচিত ।
  •  আলং ফোর্ট: ভান্ডারদারা বাঁধের উত্তর-পশ্চিমে ২৮.৫ কিমি দূরত্বে অবস্থিত, স্থানটি আরোহণকারীদের মধ্যেও জনপ্রিয়। এটি সহ্যাদ্রি পর্বতমালার কলসুবাই রেঞ্জের আলং, মদন এবং কুলং নামে পরিচিত অঞ্চলের একটি কঠিন ট্রেক। ভৌগলিক বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি ঘন বন এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ট্রেকিং স্তরটি খুবই কঠিন।
  •  ইগতপুরী: ভান্ডারদারা বাঁধ থেকে ইগতপুরী ৪১.৫ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। এই স্থানটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পর্যটকদের মধ্যে বিখ্যাত। এর চারপাশে অনেক মনোরম স্থান রয়েছে। এটি মুম্বাই আগ্রা রুটে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় হিল স্টেশন।

খাবারের বিশেষত্ব এবং হোটেল

মহারাষ্ট্রীয় খাবার এখানকার বিশেষত্ব। আমিষ জাতীয় খাবার, বিশেষ করে মাছ, বাঁধ অঞ্চলের কাছে জনপ্রিয়।

হোটেল এবং কাছাকাছি থাকার সুবিধা  / হাসপাতাল / পোস্ট
অফিস/পুলিশ স্টেশন

মহারাষ্ট্রীয় খাবার এখানকার বিশেষত্ব। আমিষ জাতীয় খাবার, বিশেষ করে মাছ, বাঁধ অঞ্চলের কাছে জনপ্রিয়।

ভ্রমণের নিয়মকানুন এবং সময়, পরিদর্শনের আদর্শ সময় ও মাস 

ভান্ডারদারা দেখার সেরা সময় বর্ষার মরশুমে। বর্ষাকালে জলপ্রপাত এবং আশেপাশের এলাকাগুলি ফুলে ফেঁপে ওঠে। গ্রীষ্মকাল কঠোর; বাঁধ ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত শুকনো থাকার দরুন এই জায়গাটি নিস্তেজ হয়ে যায়। গ্রীষ্মের শেষভাগ কাজভা (জোনাকি পোকা) উৎসবের জন্য উপযুক্ত সময়।

এলাকায় যে যে ভাষায়় কথা বলা হয়

ইংরাজি, হিন্দি, মারাঠি