• A-AA+
  • NotificationWeb

    Title should not be more than 100 characters.


    0

WeatherBannerWeb

Asset Publisher

Rajgad (Pune)

রাজগড়, এই রাজকীয় দুর্গটি ১৬৭২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মারাঠা সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল। মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও স্থপতি ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের মধ্যযুগীয় মহারাষ্ট্রের অজেয় দুর্গগুলির মধ্যে এটি অন্যতম যা প্রথমাবস্থায়  'মুরুম্বা দেবচাডোঙ্গার' নামে পরিচিত ছিল।

জেলা/অঞ্চল   
পুনে জেলা, মহারাষ্ট্র, ভারত।

ইতিহাসরাজগড় শব্দের আক্ষরিক অর্থ 'শাসক দুর্গ' যা দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মারাঠা সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল।
রাজগড় দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত ছিল যথা -নিচের দুর্গ এবং উপরের দুর্গ। উপরের দুর্গটি বালেকিল্লা নিয়ে গঠিত, যেখানে রাজকীয় বাসস্থান নির্মিত হয়েছিল। নিম্ন দুর্গটি তিন দিক দিয়ে পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত ছিল। রাজগড় দুর্গ পাহাড়ের ত্রিভুজাকৃতি অধিত্যকায় অবস্থিত। এই তিনটি পাহাড়ের নাম সুবেলামাছি, পদ্মাবতীমাছি এবং সঞ্জীবনীমাছি। দেবী পদ্মাবতীর মন্দির এবং পদ্মাবতী নামক একটি ছোট জলাশয় থেকে পদ্মাবতীমাছির নামকরণ হয়েছে।
এখানে প্রাসাদ ও বাড়ির অসংখ্য কাঠামোগত ধ্বংসাবশেষ এবং স্থম্ভমূল দেখা যায়। মারাঠা সাম্রাজ্যের অফিস এবং বাজারের ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন এখানে রয়েছে। এই দুর্গটি ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের বাড়ি ছিল। এটি তার জীবনের বিভিন্ন পর্যাযের প্রত্যক্ষদর্শী, ষোল বছর বয়সী শিবাজির দুর্গ তৈরি করা থেকে রাজা হওয়া পর্যন্ত।
ষোল বছরের যুবক শিবাজি তোরনা দুর্গ দখল করেছিলেন এবং একটি সোনার ভাণ্ডার খুঁজে পেয়েছিলেন। ভাণ্ডার থেকে পাওয়া সোনা মুরুম্বা দেবচা ডোঙ্গারে একটি দুর্গ তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সেই দুর্গের নামকরণ করা হয়েছিল 'রাজগড়'। এই দুর্গটি তখন মারাঠাদের রাজধানী ছিল যেটি বহু বছর ধরে রাজা ও তার সৈন্য-সামন্তদের বাসস্থান ও তাদের সুরক্ষা প্রদান করেছিল।
'পদ্মাবতী', 'সুভেলা' এবং 'সঞ্জীবনী' নামক তিনটি মাচি দিয়ে দুর্গটি চমৎকারভাবে নির্মিত হয়েছিল এবং 'বালেকিল্লা' নামে একটি বড় দুর্গ ছিল। প্রাচীরগুলিকে এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল যাতে সেগুলি ভারি থেকে ভারিতম আঘাত সহ্য করতে পাড়ে এবং সহজে চূর্ণবিচূর্ণ না হয়ে যায়। এই দুর্গটি শিবাজী মহারাজের দ্বিতীয় পুত্র রাজারাম মহারাজের জন্ম, তাঁর রাণী সাইবাইয়ের মৃত্যু এবং আরও অনেক কিছুর সাক্ষী থেকেছে। এটা একাধারে শিবাজী মহারাজের বাড়ি এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মারাঠা সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল।
এই দুর্গটি আরোহণকারীদের কাছে স্বর্গ এবং মারাঠা ইতিহাসের সাক্ষী।

ভূগোল
রাজগড় দুর্গ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৩৯৫ মিটার উচ্চতায় সহ্যাদ্রি পর্বতমালায় অবস্থিত।

আবহাওয়া/জলবায়ু

এই অঞ্চলে সারা বছরই গরম, অল্প শুষ্ক জলবায়ু থাকে যার গড় তাপমাত্রা ১৯-৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

এপ্রিল এবং মে এই দুই মাস এই অঞ্চলের উষ্ণতম মাস যখন তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়। 

শীতকাল চরম এবং তাপমাত্রা রাতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে, কিন্ত দিনের বেলায় গড় তাপমাত্রা থাকে প্রায় ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এই অঞ্চলের বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ৭৬৩ মিমি।

করণীয়
রাজগড়ে অনেক কিছু করার এবং দেখার স্থান আছে যেমন,
১. বালেকিল্লা
২. পদ্মাবতীমাছি
৩. সুভেলামাছি
৪. সঞ্জীবনীমাছি
৫. আলুদরওয়াজা
৬. পদ্মাবতী মন্দির
৭. দুর্গে আরোহণ
৮. অন্যান্য দুর্গ যেমন তোরনা, রায়গড়, প্রতাপগড়, মঙ্গলগড়, লিঙ্গানা, চন্দ্রগড় ইত্যাদির মত দর্শনীয় স্থান।
৯. গ্রীষ্মকালে রাতের বেলায় কেল্লায় আরোহণের ব্যবস্থা রয়েছে।

নিকটবর্তী পর্যটন কেন্দ্র
রাজগড়ের নিকটবর্তী দর্শনীয় স্থানগুলি যথাক্রমে, 
1. তোরনা দুর্গ (১২ কিমি)
2. মান্ধারদেবী কালুবাই মন্দির (৪২KM)
3. পুরন্দর দুর্গ (৪৩ কিমি)

দূরত্ব এবং প্রয়োজনীয় সময় সহ রেলপথে, বিমানপথে, সড়কপথে (ট্রেন, ফ্লাইট, বাস দ্বারা) কীভাবে পর্যটন স্থানে ভ্রমণ করবেন
অনেকভাবেই দুর্গে গমন করা যায়। যেমন-
- বিমান পথে: নিকটতম বিমানবন্দরটি হল পুনে বিমানবন্দর।
- রেলপথে: মুম্বাই থেকে পুনেগামী অনেক ট্রেন আছে।
- সড়ক পথে: পুনে শহর থেকে দুর্গের দূরত্ব ৫৬ কিমি। পুনে থেকে দুর্গে পৌঁছাতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। কেউ ইচ্ছা করলে রাজপথ ব্যবহার করে মুম্বাই থেকে পুনে পৌঁছাতে পারেন এবং সেখান থেকে দুর্গের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারেন।  

খাবারের বিশেষত্ব এবং হোটেল
মহারাষ্ট্রীয় খাবার

হোটেল এবং কাছাকাছি থাকার সুবিধা  / হাসপাতাল / পোস্ট অফিস/পুলিশ স্টেশন●  পূর্বে বিজ্ঞপ্তি দিলে স্থানীয়রা আবাসনের ব্যবস্থা করে দিতে পারে।
● দুর্গ প্রাঙ্গণে বা এর আশেপাশে কোনো হাসপাতাল নেই, তবে পুনে শহরে অনেক মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতাল রয়েছে।
● নিকটতম পুলিশ স্টেশনটি রাজগড়ের নিকটবর্তী শহর নাসরাপুরে অবস্থিত।
● দুর্গ চত্বরে কোন ডাকঘর নেই।

কাছাকাছি অবস্থিত এমটিডিসি রিসোর্টের বিবরণ
এমটিডিসি রিসোর্ট পানশেট (৩২.৫ কিমি)

ট্যুর অপারেটরের তথ্য
কিছু ট্যুর গাইড অপারেটর রয়েছেন যারা পরিকল্পনা মাফিক ট্যুর করান, যার মধ্যে রয়েছে ভ্রমণ, খাবার এবং রাজগড় দুর্গের গাইডেড ট্যুর।

ভ্রমণের নিয়মকানুন এবং সময়, পরিদর্শনের আদর্শ সময় ও মাস 
 এই দুর্গ পরিদর্শনের আদর্শ  সময় অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত।
- যদি কেউ রাতে পদব্রজে যাত্রার পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে গ্রীষ্ম কালের এপ্রিল থেকে জুন মাস এই ভ্রমণের জন্যে আদর্শ।
- বর্ষার প্রথম কয়েক সপ্তাহ দুর্গ পরিদর্শন এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
- পরিদর্শনের সময় অবশ্যই আবহাওয়া এবং জলবায়ুর উপযোগী পোশাক পরতে হবে এবং খেলায় ব্যবহৃত জুতা পরতে হবে।
- যদি কেউ রাতে পদব্রজে যাত্রার পরিকল্পনা করেন, তাহলে উপযুক্ত পোশাক পরার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ব্যাটারি এবং অতিরিক্ত টর্চ বহন করতে হবে।
- দুর্গ পরিদর্শনের সর্বোত্তম সময় সকাল ৯:০০ থেকে সন্ধ্যে ৬:০০ পর্যন্ত। তবে সূর্যাস্তের আগেই দুর্গ থেকে নেমে পড়া ভালো।

এলাকায় যে যে ভাষায়় কথা বলা হয়
ইংরাজি, হিন্দি, মারাঠি